বেলজিয়ামের জনপ্রিয় বিনোদন পার্কগুলোর চলতি বছরের গ্রীষ্ম মৌসুম প্রত্যাশিতভাবে কাটেনি। পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, টানা উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্থিক সংকটের কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা ও ব্যবসা এই মৌসুমে ভাটা পড়ে। যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে ওয়ালিবি, প্লপসা, বেল্লেওয়ার্দে ও বববেজ্যানল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সবাই বলছে, গরমের কারণে পার্কে আসা মানুষের সংখ্যা কমেছে।

বেল্লেওয়ার্দে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যখন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়, তখন বেশিরভাগ দর্শনার্থী বাড়িতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্লপসা পার্কের মুখপাত্র জান পিটার বুদতস বলেন, পার্কগুলো গরমের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি নিলেও, এ সময় পানির আকর্ষণীয় খেলাধুলার জায়গাতেই মানুষের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। ওয়ালিবি পার্ক জানিয়েছে, গরমের দিনে দর্শনার্থীরা অন্য বিনোদনের খোঁজে থাকেন, ফলে গ্রীষ্মকাল প্রত্যাশা অনুযায়ী যায়নি।

বববেজ্যানল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, গরমে দর্শনার্থীরা সাধারণত সকালে বেশি আসেন এবং পানির আকর্ষণ ও ছায়াঘন জায়গা খুঁজে নেন। পার্কটির মুখপাত্র পেগি ফেরেলস্ট বলেছেন, তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি ছাড়ালেই সুইমিং পুল ও সৈকতভিত্তিক বিনোদন পার্কগুলোর বিকল্প হিসেবে জোরালো প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

বেল্লেওয়ার্দে পার্ক আরও জানিয়েছে, তাপমাত্রা ছাড়াও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবও দর্শনার্থীদের ব্যয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। পার্কটির মুখপাত্র ফিলিপ ফন ডর্পে বলেন, দর্শনার্থীর সংখ্যা ও খরচ দিনের আবহাওয়ার ওপরে নির্ভর করেছে এবং অনেকদিন তা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তবু সব মিলিয়ে এই মৌসুম নিয়ে পার্কটি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

এদিকে, আসন্ন শরৎ মৌসুম সামনে রেখে বেল্লেওয়ার্দে পার্ক ঐতিহ্যবাহী হ্যালোইন উৎসবের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ফরাসি ও ডাচ ভাষাভাষীদের স্কুল ছুটির সময়সূচি এক সপ্তাহে না হওয়ায় পার্কগুলোকে দীর্ঘ সময় খোলা রাখতে হচ্ছে, এতে করে পার্ক ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।