দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় উৎসব ও ফুটবল ক্লাবের জন্য পরিচিত জার্মানির মিউনিখ শহর এখন দ্রুতই ইউরোপের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। উৎপাদিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ড্রোন, সফটওয়্যার ও অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি মিউনিখকে এই খাতে তুলে আনছে সামনে।

২০২৬ সালের জন্য জার্মান সরকারের বাজেটে শুধু প্রতিরক্ষার জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো। বিশেষ ফান্ডসহ এই খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ পৌঁছাতে পারে প্রায় ১০৮ বিলিয়ন ইউরোতে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।

মিউনিখ ও এর আশেপাশে বর্তমানে ডজনখানেক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈরাল কোম্পানি কোয়ান্টাম সিস্টেমস, হেলসিং ও টাইটান টেকনোলজিস। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে ড্রোন সরবরাহের পাশাপাশি, কোয়ান্টাম সিস্টেমস স্থল ও জলযানেও কাজ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টাইটান কোম্পানিও সম্প্রতি দ্রুত জনবল বাড়িয়েছে এবং নতুন একটি কারখানা স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মিউনিখ চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, শুধু প্রতিরক্ষা খাতেই এই এলাকার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিগুণ হয়ে এখন প্রায় ৬০-এ পৌঁছেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মিউনিখ ও আশপাশের অঞ্চলের শক্তিশালী প্রকৌশলী জনবল, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দক্ষতা এবং রোবোটিক্সে অভিজ্ঞতাই এখানে প্রতিরক্ষা খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া, দেশের গাড়ি শিল্পে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মীও ধীরে ধীরে সামরিক প্রযুক্তি খাতে যুক্ত হচ্ছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা, উৎপাদন প্রকল্প পরিচালনার অনুমোদন পাওয়ার ধীরগতিসহ আরও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে। পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা ড্রোনের পরিবর্তে প্রচলিত সরঞ্জামে অগ্রাধিকার দেওয়ায় নতুন প্রযুক্তির প্রসার কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।