ইউরোপের শহরাঞ্চলে গড় আয়ে ৫০ বর্গমিটারের একটি বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে না—এমন তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায়। গবেষণা অনুযায়ী, এ ধরনের শহরে ইউরোপের নগর জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ বাস করেন। শুধু তাই নয়, মোট জনসংখ্যার ৩৯ শতাংশের পক্ষেও একই আকারের একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ভিয়েনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৩০টির বেশি ইউরোপীয় দেশের সম্পত্তি ও আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন। তারা দেখেছেন, প্যারিস, বার্লিন, মাদ্রিদের আশপাশ, রাজধানী অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে সুপরিচিত আলপাইন এলাকাগুলোতেই বাড়ি-সংকট সবচেয়ে তীব্র। গবেষণায় ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি বিক্রির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে আরও দেখা যায়, ইউরোপের ৭০ শতাংশের বেশি নাগরিক এমন এলাকায় থাকেন, যেখানে গড় আয়ে ৩০ বছরের ঋণ নিয়ে সর্বাধিক ৭৫ বর্গমিটারের বাড়ি কেনা যায়। বিশেষভাবে পর্তুগাল, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে আয়ের তুলনায় বাড়ির দাম অত্যন্ত বেশি।
গবেষকদলের মতে, বাড়ির উচ্চমূল্যের প্রভাব বড় শহরের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও পড়ছে। এজন্য তারা নীতিগত হস্তক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন। পর্যটনকেন্দ্রিক উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলে দ্বিতীয় বাড়ি মালিকানার প্রবণতা এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার চাহিদা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়া নেয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত করছে।
তবে গবেষণায় প্রকাশিত যে তথ্যগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, তা মূলত বিক্রির বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত মূল্য, বাস্তব বিক্রয়মূল্য নয়। তাছাড়া বাড়ি কেনার সময় যে ধরণের অগ্রিম অর্থ বা অন্যান্য অর্থনৈতিক বাধা থাকে, তা হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে বলে গবেষকরা বলেছেন।
