যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, ইউক্রেনকে পূর্বে দেওয়া সামরিক সহায়তা ও গোলাবারুদের খরচ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে চাওয়া হবে। তিনি বলেন, তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের শাসনামলে ইউক্রেনে বিনামূল্যে পাঠানো অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে এখন অর্থ প্রদান করতে হবে এবং এ দাবি শিগগিরই জানানো হবে।

ট্রাম্প আরও জানান, যদি তিনি আবার প্রেসিডেন্ট হন, তবে ওয়াশিংটন ইউক্রেনে অস্ত্র সহায়তা স্থগিত রাখবে, যদি না ইউরোপীয় দেশগুলো এর মূল্য পরিশোধ করে। পাশাপাশি তিনি জানান, ইউক্রেনকে নতুন করে অস্ত্র সরবরাহ করার আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চান। কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি-র হিসাবে, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্র ১১৫ বিলিয়ন ইউরো মূল্যমানের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার পরিমাণ ৭৭ বিলিয়ন ইউরো।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অস্ত্র উত্পাদন করছে এবং এসব অস্ত্র নিজেদের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, অচিরেই মিত্র দেশগুলোকে আবারো অস্ত্র বিক্রি শুরু হবে।

আমেরিকার বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর দীর্ঘপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।