সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্তাবলী আগের চেয়ে আরও কড়া করেছে। সাধারণত এসব দেশে নাগরিকত্বের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর বসবাস করার নিয়ম ছিল। তবে এখন কোথাও কোথাও সেই সময়কাল বাড়ানো হচ্ছে এবং বিকল্প আবেদনপদ্ধতি বন্ধ করা হচ্ছে।

পশ্চিম ইউরোপের দেশ পর্তুগালে সম্প্রতি একটি নতুন আইনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার ন্যূনতম আবাসনের শর্ত পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশের নাগরিকদের জন্য এই শর্ত সাত বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে মাল্টার বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালতের এক আদেশের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে গেছে। আদালত রায়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মসূচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের পরিপন্থী।

জার্মানিতে আগে যারা দ্রুত সমাজে মিশে যেতে পেরেছেন তাদের তিন বছরের মধ্যে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ ছিল, তবে সেটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে তুলে দেয়া হয়েছে। এখন সাধারণত পাঁচ বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যাবে। তবে যারা জার্মান নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ, তারা তিন বছর পরই আবেদন করতে পারবেন।

ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, বুলগেরিয়া এবং বেলজিয়ামে পাঁচ বছর থাকা শর্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। গ্রিসে অবশ্য সাত বছর বসবাসের শর্ত বজায় আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগের বিনিময়ে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার পথগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেবল রক্তসম্পর্কিত আবেদনই তুলনামূলকভাবে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে থাকছে।