যুক্তরাষ্ট্রে শিশু ও কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে জার্মানিতে। দেশটির ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে প্রস্তাবিত দৈনিক ব্যবহার সীমা, রাতভর ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং নোটিফিকেশন সীমিত করার মতো ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তারা বলেছেন, আরও কঠোর নিয়মকানুন জরুরি।

জার্মান ভোক্তা কেন্দ্রীয় সংস্থার সভাপতি রামোনা পপ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সেটির চেয়েও বেশি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মের কিছু অংশে প্রবেশ বন্ধ রাখা, বিদ্যালয় সময়ে নোটিফিকেশন বন্ধ করা, ব্যক্তিগতকরণ ছাড়া ফিড দেখার সুযোগ এবং অটো-প্লে অপশন বন্ধ করা—এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি, বয়স যাচাই পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করার এবং ১৩ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মূল সমস্যা হলো, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যেই আটকে রাখার জন্য নির্মিত হয় এবং এর পেছনের অ্যালগরিদম ও ব্যবসায়িক মডেলই সর্বাধিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

জার্মানির ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শিশুদের সার্বিক সুরক্ষার দায়িত্ব শুধু অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; এজন্য সামাজিক মাধ্যমগুলোকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্ক্রিন টাইম সীমিত করলেই হবে না, সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট প্রস্তাব, ইনস্ট্যান্ট নোটিফিকেশন এবং ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার কৌশল বদলানো ছাড়া সত্যিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। তারা আরও বলছেন, মেটার বর্তমান পদক্ষেপ শুধুমাত্র আইনগত দায় এড়ানোর চেষ্টা, বাস্তবসম্মত সুরক্ষার জন্য গোটা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থারই আমূল পরিবর্তন দরকার।