ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের সহ-সভাপতি তেরেসা রিবেরা সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা ব্যয়ের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু জাতীয় বাজেট বা ইউনিয়নের প্রচলিত তহবিলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই জলবায়ু সুরক্ষাকে এখন সংস্থান ও নীতিনির্ধারণে একটি যৌথ লক্ষ্য হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিনিয়োগের জন্য বাজেটের পরিধি বাড়ানো, যৌথ ঋণ গ্রহণ, ইউনিয়নের স্থায়ী বাজেট বৃদ্ধি এবং সবুজ বন্ডের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। রিবেরা আরো বলেন, বড় বড় তেল কোম্পানির উপর নতুন করে কর আরোপ করে একটি স্থিতিশীলতা তহবিল গঠনের প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। সম্প্রতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে চরম আবহাওয়া দ্রুত বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তীব্র গরমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সংকট দেখা দিচ্ছে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীতলীকরণেও সমস্যা হচ্ছে।

রিবেরা জানান, ইউরোপের কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ বন আগুন ও কৃষি উৎপাদনে ক্ষতির কারণে মানবজীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউরোপ এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তার মতে, সব ধরনের ঝুঁকির জন্য বীমা ব্যবস্থা চালু করা কিংবা জনস্বার্থে পরিচালিত বাজেট দিয়ে সব ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর প্রায় ৭০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিগগিরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় নতুন একটি নির্দেশনা ও পদক্ষেপমূলক পরিকল্পনা প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।