জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক উষ্ণতা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে। তবে এক্ষেত্রে হতাশ হওয়ার কারণ নেই, কারণ শেষ পর্যন্ত উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রিতে আটকে রাখার লক্ষ্য পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দ্রুত কার্বন নির্গমন কমাতে হবে এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও শতাব্দীর শেষে উষ্ণতা ১.৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে, কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বাড়তি উষ্ণতার মাত্রা ২ ডিগ্রিও পেরিয়ে যেতে পারে। উষ্ণতা যত বাড়বে, তত বেশি ক্ষতির আশঙ্কা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১.৫ ডিগ্রির ওপরে উষ্ণতা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটাও বিপর্যয়ের মাত্রা নির্ধারণ করবে।

ইউএনইপি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ফসিল জ্বালানির ব্যবহার ছাড়তে হবে এবং বন-সমুদ্রের মতো প্রাকৃতিক কার্বন সংগ্রাহক ব্যবস্থাগুলো আরও সুরক্ষিত করতে হবে। কার্বন নির্মূল ও ব্যাপক মাত্রায় কার্বন অপসারণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে, শতাব্দীর শেষে উষ্ণতার মাত্রা আবারও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে অনেক দেশ ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে শিগগিরই অভিযোজন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হয়তো শতাব্দীর শেষে উষ্ণতার মাত্রা ১.৫ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে, তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক ক্ষতি তখন আর ফিরে পাওয়া যাবে না।