বেলজিয়ামের ফ্লেমিশ অঞ্চলে কংক্রিট, ইট, অ্যাসফল্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারে ভূমি দখল বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলের মোট ভূমির ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বর্তমানে কৃত্রিম নির্মাণসামগ্রীতে আচ্ছাদিত। এতে বাড়ির আঙিনা, খেলাধুলার মাঠ, পার্ক এবং নানা ধরনের ব্যবহৃত এলাকা যুক্ত করলে দেখা যায়, অঞ্চলটির ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ ভূমি মানুষের বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতির ভাগ মাত্র ২১ শতাংশে সীমাবদ্ধ।
গত এক দশকে কংক্রিটের বিস্তার ১১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ দশমিক ৮ হেক্টর নতুন ভূমি, যা আটটি ফুটবল মাঠের সমান, নির্মাণসামগ্রীর নিচে চলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত কংক্রিটায়নের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, জলধারার স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সেই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও হ্রাস পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খরার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। বড় একটি সমস্যা হচ্ছে, এখানে বেশিরভাগ প্রাকৃতিক এলাকা এক হেক্টরেরও ছোট, যেটি বন্যপ্রাণীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
তবে ইতোমধ্যে কিছু স্থানীয় উদ্যোগ নজর কেড়েছে। দেশটির আন্টওয়ার্পের জুইডপার্ক, সিন্ট-নিক্লাসের গ্রোট মার্কট এবং রুজেলারতে মোয়েরমানপার্ক—এই তিনটি স্থানে কংক্রিট সরিয়ে নতুন করে সবুজ এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্লেমিশ সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে নতুন কোন উন্মুক্ত জমি পুনরায় নগরায়ন না করার এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত আরও ২১ হাজার হেক্টর থেকে কংক্রিট অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যমান কাঠামো সরানো, মাটি পুনরুজ্জীবিত করা, কংক্রিট অপসারণ ও পরিবহন—সব ধাপে বেশ বড় ব্যয় ও দীর্ঘ সময় লাগবে।
সরকারি নীতিমালা পরিবর্তনে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৩১ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ সুফল মিলবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, লক্ষ্য অর্জনে পরিবহনকেন্দ্রিক এলাকায় বাসস্থান গড়ে তোলা, কৃষি ও প্রাকৃতিক অঞ্চল সংরক্ষণ এবং পানি ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কংক্রিট অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
