জার্মান কৃষক সমিতি চলমান খরার কারণে এ বছর দেশটির কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাওয়া ও কিছু অঞ্চলে সম্পূর্ণ ফসলহানির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। সংস্থার সভাপতি জোয়াখিম রুকভিড জানান, এবার বিশেষ করে গমসহ প্রধান শস্য ও তেলবীজ রেপস-এর ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। একইসঙ্গে শরৎ মৌসুমের মধ্যে উৎপাদিত আলু, শাকসবজি, চিনি বিট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সমিতি জানিয়েছে, জার্মানির দক্ষিণ অঞ্চলে ক্ষতির মাত্রা এতটাই বাড়তে পারে যে, কৃষকরা কোনো ফসল ঘরে তুলতেই ব্যর্থ হতে পারেন। অন্যদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাত হলেও উৎপাদন সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে পিছিয়ে থাকবে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

এদিকে, উচ্চ তাপমাত্রা ও খরার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে পশুখাদ্য সংকটও দেখা দিচ্ছে। ফলে কিছু কৃষক তাদের পশুপ্রাণী নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আগেই জবাই করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জোয়াখিম রুকভিড আরও বলেন, কৃষি খাত এখন নানাবিধ সংকটে পড়েছে। একদিকে উচ্চ উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে ফসলের কম দাম—এ কারণে অনেক কৃষক সার ও কীটনাশকের বিল পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে কৃষক সমিতি সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে। সমিতির সভাপতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার সহায়তা তহবিলের পরিমাণ ৬০ মিলিয়ন ইউরো থেকে বাড়িয়ে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে কৃষি খাতে সরাসরি প্রণোদনার অগ্রিম পরিশোধ, কৃষি কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর কর হ্রাসের সময়সীমা বাড়ানো, এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় করমুক্ত তহবিল গঠনের বিষয়েও সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই ও সহনশীল নতুন জাত উদ্ভাবনেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।