ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ ১৫ বছরের কমবয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত আইন বাতিল করেছে। সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এ আইনটি। এটি বাতিল হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে। আদালত জানিয়েছে, এ ধরনের কড়াকড়ি শিশুদের মত প্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করবে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্টের দপ্তর প্রধানমন্ত্রীর কাছে আদালতের যুক্তিগুলো বিবেচনা করে আরও শক্তিশালী ও আইনি দিক দিয়ে নিখুঁত একটি নতুন খসড়া তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। নতুন আইনের লক্ষ্য ২০২৭ সালের বসন্ত, যখন ম্যাক্রোঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে। আদালত বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইলে অভিভাবকদের আরও বেশি ভূমিকা ও নমনীয়তা দেওয়া দরকার।
নতুন এই আইনটি নিয়ে সমালোচনা ওঠে যে, এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা ঝুঁকি ও শিশুদের মানসিক-বিকাশগত পার্থক্যগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ব্রাসেলসভিত্তিক আইনজীবী পিটার ক্র্যাডক মন্তব্য করেছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে একই রকম পরিকল্পিত আইনগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এ বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে ইউনিয়নজুড়ে পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফ্রান্সের এই আদালতের রায় অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।
