জার্মান সরকারের নয়া আইনের ফলে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থ্যা ও গোপন তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। আইন সংশোধনের ফলে অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন, জ্বালানি অবকাঠামোয় সাইবার হামলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির মতো জটিল হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থ্যাগুলো আরও বিস্তৃত ক্ষমতা পাবে।

আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মতোই দেশটির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (BND) ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা কেবল তথ্য সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত থাকবে না, জরুরি পরিস্থিতিতে হুমকি প্রতিহত করার জন্য সরাসরি অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। বিশেষ করে সাইবার হামলার ক্ষেত্রে, তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, তথ্য চুরি বা মুছে ফেলতেও পারবে তারা। এছাড়া, বিদেশে হুমকিপূর্ণ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে BND-এর মাধ্যমে কৌশলগত নাশকতামূলক অভিযান চালানো সম্ভব হবে। তবে ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ নিষিদ্ধ থাকছে। পাশাপাশি, বিদেশে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অনুমতিপত্র থাকার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, বড় আকারের ডেটা ও বায়োমেট্রিক তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপরদিকে, বাড়ি-ঘরে নজরদারি, অনলাইনে গোপন অনুসন্ধান, চলাফেরার টহল প্রোফাইল তৈরি এবং এসব ডেটা কত দিন সংরক্ষণ করা যাবে—সে বিষয়েও নতুন বিধান এসেছে।

গোয়েন্দা কার্যক্রমে বাড়তি ক্ষমতার কারণে তত্ত্বাবধানও বাড়ছে। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান স্বাধীন তদারকি পরিষদের আওতায় থাকবে এবং পার্লামেন্টary নজরদারিও বহাল থাকবে। তবে, কিছু বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দল যেমন, গ্রীনস ও লেফট পার্টি এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, এভাবে গোয়েন্দা ও পুলিশের ক্ষমতা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় সাংবিধানিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তারা আরও বলছেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও ব্যক্তিগত ভিডিও তত্ত্বাবধান মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াবে।