বেলজিয়ামের ফ্লেমিশ অঞ্চলের সরকার সম্প্রতি বিদেশি ধর্মীয় নেতাদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নীতিমালা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে সেখানে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্ম চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফ্লেমিশ অঞ্চলের কর্মসংস্থান ও বিচারমন্ত্রী জুহাল দামির সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ইসলামিক সম্প্রদায়ের জন্য কাজের অনুমতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ১৩টি কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়াবে মাত্র ২টিতে এবং ২০২৬ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে ইমামের গুরুতর সংকট তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী দামির এই কঠোর নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন 'নির্বাচিত শ্রম অভিবাসন' নীতির কথা বলে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মুসলিমদের নিজ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সরাসরি হ্রাস করবে।
বিশেষত, তুরস্কের মাধ্যমে পরিচালিত ধর্মীয় কার্যক্রম এবং 'সবুজ পাসপোর্ট' ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের অভিবাসী মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দুর্বল করবে।
পার্লামেন্টে নতুন আইন প্রস্তাব ও রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট— সংখ্যালঘুদের অধিকার সীমিত করতে আইন ও প্রশাসনিক উদ্যোগ আরও বেশি জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করেছে, এসব একতরফা পদক্ষেপ মুসলিম সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন কাঠামোয় আবদ্ধ করার ঝুঁকি রাখে। নিরাপত্তা এবং নিয়ম-কানুনের অজুহাতে নেওয়া এসব নীতি সমাজে বিভাজন বাড়িয়ে তুলছে বলে তারা মত দিয়েছেন। এভাবে গোটা বেলজিয়ামে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
