বেলজিয়ামে প্রথমবারের মতো একটি ঘোড়ার দেহে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসের উপকণ্ঠে, স্নায়ুবিক উপসর্গ দেখা দেওয়ায় গত মঙ্গলবার ওই ঘোড়াটিকে মুমূর্ষু অবস্থা বিবেচনায় এনে স্বেচ্ছামৃত্যুর (ইউথেনাইজ) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী বিশ্লেষণে ঘোড়াটির দেহে ওয়েস্ট নাইল সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ ঘটনা নিয়মিত কোনো নজরদারি কর্মসূচির আওতায় না ঘটলেও সংশ্লিষ্ট পশু চিকিৎসকের তৎপরতার ফলেই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ভাইরাস মূলত পাখি এবং ‘কিউলেক্স’ প্রজাতির মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এই ধরনের মশা তরল গ্রহণের মাধ্যমে ভাইরাসটি ঘোড়া বা মানুষের দেহে প্রবেশ করাতে পারে। তবে নিশ্চিত করা হয়েছে, আক্রান্ত ঘোড়াগুলো নিজেরা ভাইরাস ছড়ায় না। আফ্রিকার বাইরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হলে তাই সাধারণত ঘোড়া থেকেই আঞ্চলিক বিস্তারের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। এর আগে ২০২৫ সালে ফ্লেমিশ অঞ্চলে তিনটি কাক এবং ২০২৬ সালের মে ও জুলাই মাসে কয়েকটি পাখির দেহেও ভাইরাসটির অস্তিত্ব মিলেছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘোড়ার মালিকদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার দরকার নেই। স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা চর্চা এবং মশা প্রতিরোধী ব্যবস্থাই যথেষ্ট। ঘোড়ার জন্য ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের টিকা থাকলেও মানুষের ক্ষেত্রে এখনও এ ধরনের কোনো টিকা নেই। মানুষের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সংক্রমণ উপসর্গবিহীনভাবে ঘটে, কেবল শতকরা এক ভাগের মতো রোগীর ক্ষেত্রে স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে মানুষের ক্ষেত্রে মশার কামড় থেকে সাবধানতাই প্রধান প্রতিরোধ হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
