২০২৬ সালের গ্রীষ্মে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপদাহ ও নজিরবিহীন খরার মুখে পড়েছে কৃষি খাত। বাডেন-ভ্যার্টেমবার্গ, হেসেন, রাইনল্যান্ড-ফ্যালৎস এবং মেইনফ্রাঙ্কেনসহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত দশ লিটারের কোটাও ছাড়ায়নি।
বিশেষ করে ভুট্টা চাষের ক্ষেত্রে উৎপাদন ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে কৃষকের আয়ও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। জার্মান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশজুড়ে গড়ে মাত্র চল্লিশ লিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা ১৯৯১-২০২০ সালের গড়ের অর্ধেকেরও কম।
জার্মান কৃষক সমিতির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দেরিতে বপন করা শস্য বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভুট্টা, চিনাবি ও আলু উৎপাদনে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তুলনামূলকভাবে শীতকালে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পাওয়ায় গম ও যবের উপর খরার প্রভাব কম পড়ছে। তবে দেরিতে বেড়ে ওঠা ফসলগুলো পানির সংকট আর উচ্চ তাপমাত্রার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ খরার কারণে শুধু কৃষি নয়, নদীপথে পরিবহন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; নদীর জলস্তর কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজগুলো স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতার অনেক কম নিয়ে চলাচল করছে।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম ইউরোপে কৃষিজমি শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গত কয়েক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম গরম এখন ইউরোপে খরার প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন উদ্ভিদের জাত এবং নতুন চাষ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে, যেগুলোর শিকড় গভীরে যায় ও বেশি পানি জমা রাখতে পারে।
তবে স্বল্পমেয়াদে কৃষকের জন্য প্রধান সমাধান হিসেবে সেচ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেচে বাড়তি ব্যয় এবং পর্যাপ্ত পানির অভাব, এই দুই কারণেই সমস্যার সমাধান এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়ে গেছে।
