ইতালিতে পরিচালিত এক বিস্তৃত গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরু করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সাফল্যে স্পষ্টভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মিলান-বিকোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্কো গুয়ি ও তাঁর সহকর্মীরা ৫,২৭৭ শিক্ষার্থীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরণ ও শিক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা ষষ্ঠ, সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলেন, তারা নবম শ্রেণিতে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে শুরু করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষাগত পরীক্ষায় কম নম্বর পান। খুব কম বয়েসে ব্যবহার শুরুকারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য প্রায় দেড় শিক্ষাবর্ষের শেখার ঘাটতিতে পৌঁছেছে।

তবে ইংরেজি বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি কারণ হচ্ছে ইংরেজি বিষয়ক কনটেন্ট এসব প্ল্যাটফর্মে বেশি থাকায় ছাত্রছাত্রীরা দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজি চর্চার সুযোগ পান।

অন্যদিকে, কম বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত শিশুদের গণিত ও মাতৃভাষা বিষয়ক শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি, এদের মধ্যে শ্রেণি পুনরাবৃত্তির হারও বেশি।

গবেষণা দল জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটানোয় শিশুদের মনোযোগ বিঘ্নিত হয় এবং তারা সময় ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ছোটবেলায় এসব প্ল্যাটফর্মে বেশি সম্পৃক্ত থাকলে শুধু শিক্ষাগত পারফরম্যান্স নয়, মনোযোগ ক্ষমতা, ঘুমের মান এবং সার্বিক জীবন সন্তুষ্টিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণার এই ফলাফল ফ্রান্সসহ কিছু দেশে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়স সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি জোগাচ্ছে।