জার্মানিতে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটির প্রতি দশজনের মধ্যে প্রায় চারজন সংবাদ জানতে প্রচলিত সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশনের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আস্থা রাখেন। ‘সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাটলাস ২০২৬’ নামে এই জরিপে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আস্থা বেড়েছে ৬ শতাংশ পয়েন্ট এবং বর্তমানে তা ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জরিপের জন্য ১৬ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৩,৬০০ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আস্থা ৫০ শতাংশেরও বেশি। অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ বিশেষভাবে বন্ধু, পরিচিতজন কিংবা আত্মীয়স্বজনের শেয়ার করা তথ্যের ওপর বিশ্বাস করেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশকৃত তথ্য অনুসরণকারীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জেনারেশন-জেডে ওই হার ৪৭ শতাংশ, আর ইয়ো-জেনারেশনে ৪৬ শতাংশ।
তবে সমীক্ষায় উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় অংশই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুল ও ভুলভ্রান্ত তথ্যের মুখোমুখি হন। অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ মনে করেছেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। টিকটকের ক্ষেত্রে এই হার ৫১ শতাংশ এবং ইনস্টাগ্রামে ৪৫ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক রোলান্ড হেইন্টজে জানান, তথ্য যাচাইয়ের পরিপার্শ্বিকতা দুর্বল হওয়ায় সংবাদ পরিবেশনের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে; যা গণতন্ত্রের জন্য একটি উদ্বেগজনক বার্তা। তার মতে, কে জনগণের মতামত গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখছে— সেই ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
