সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ইউরোপের খাদ্য, জ্বালানি ও নানা পণ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৩ বিলিয়ন টন পণ্য জলপথে পরিবাহিত হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন্দরে পণ্য ওঠানামার পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন টন। এই পরিমাণটি বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের প্রায় ২৬ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুসারে, ইউনিয়নের বাইরের পণ্য বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই পানি পথে হয়ে থাকে।

ইউরোপের সামুদ্রিক বন্দরগুলোর মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা ও সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিতে ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, রোটারডাম বন্দরে সর্বাধিক পণ্য ওঠানামা হয়েছে, যার পরিমাণ ৩৯৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প-ব্রুজেস বন্দর (২৪৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন), তৃতীয় স্থানে জার্মানির হামবুর্গ (৯৭ মিলিয়ন টন)। এছাড়া আলহেসিরাস, আমস্টারডাম, মার্শেই, বার্সেলোনা, ট্রিয়েস্তে, সিনেস, পিরাইয়াসসহ ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরও তালিকায় রয়েছে। প্রথম ২০টির মধ্যে অর্ধেকই পশ্চিম ইউরোপের।

দেশ হিসেবে হিসাব করলে, নেদারল্যান্ডস ৫৩৮ দশমিক ১ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন করে শীর্ষে রয়েছে। এরপরই ইতালি (৪৮৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন) ও স্পেন (৪৮৬ মিলিয়ন টন)। বেলজিয়াম, জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রতিটিই ২৫০ মিলিয়ন টনের বেশি পণ্য হ্যান্ডল করেছে। গ্রিস, সুইডেন ও পোল্যান্ডের ক্ষেত্রেও ১০০ মিলিয়ন টনের বেশি পণ্য ওঠানামা হয়েছে।

যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য সদস্য ও ইএফটিএভুক্ত দেশগুলোকেও বিবেচনা করা হয়, তাহলে তুরস্ক ৫২৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। মোট পরিবহনে নরওয়ে, গ্রীস ও সুইডেনও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কল্যাণে সামুদ্রিক বন্দর ও জলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণে মার্চ ২০২৬ সালে কমিশন বন্দর, নৌযান নির্মাণ এবং জলপথ পরিবহনকে আরও টেকসই, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে দুটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।