বেলজিয়ামের কারাগারগুলোতে বন্দিদের সঙ্গে নিষ্ঠুর ও অবমাননাকর আচরণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কাউন্সিলের আওতাধীন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি (CPT)। কমিটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংকট শুধু বন্দিদের জীবনের মানকে নয়, দেশটির বিস্তৃত বিচারিক কাঠামোকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। গত বছর মে মাসে পাঁচটি কারাগার এবং আন্টওয়ার্প ও গেন্টের বিচারিক মনোচিকিৎসা কেন্দ্রে সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের পর থেকে আটক ও বন্দিদের থাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দি সংখ্যা অনেক বেশি বাড়ায় অনেককেই মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হতে দেখা গেছে। এতে করে বন্দিদের ব্যক্তিগত জায়গার সংকট, বাসস্থান ও কর্মপরিবেশের আরও অবনতি, মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও মানসিক সেবার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধায় চরম ঘাটতির খবর উঠে এসেছে।
কারাগারগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় আইনসম্মত ন্যূনতম সেবাও অনেক সময় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্মী সংকট আরও তীব্রতর হয় ধর্মঘট চলাকালে। এছাড়া, কারাগারের কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক নির্যাতনের অভিযোগ বেড়েছে। পুরুষ বন্দিদের মধ্যে সহিংস ঘটনা বাড়লেও নারী ওয়াড় ছাড়া অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতেও সহিংসতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নিরাপত্তা আশঙ্কায় নিজ কক্ষ থেকেও বের হতে চান না।
কমিটি আরও জানিয়েছে, বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অপর্যাপ্ত, পাশাপাশি আত্মক্ষতি করা বন্দিদের প্রতি প্রশাসনিক ব্যবস্থাও অনুপযুক্ত ও শাস্তিমূলক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রনিক নজরদারি সম্প্রসারণ, নতুন দণ্ডবিধি প্রণয়ন ও আহত বাহকদের বিষয়ে আলাদা নির্দেশিকা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
কারাগারে অতিরিক্ত ভিড়, কর্মকর্তা সংকট, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সমস্যার প্রেক্ষাপটে পাঁচ দিনের একটি ধর্মঘট ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা চলবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।
