চলতি বছর ইউরোপজুড়ে প্রচণ্ড গরম ও বন firesের কারণে মহাদেশটির প্রধান নদীগুলোর পানিপ্রবাহ নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। রাইন, ড্যানুব ও পো নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে পানি হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই কারণে লাখ লাখ মানুষের সুপেয় পানি, কৃষি উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ এখন বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অদক্ষ পানি এবং জলবায়ু ব্যবস্থাপনার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নানা খাতে ব্যয় ও ঝুঁকি দিনে দিনে বাড়ছে। নদীগুলোতে পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় অনেক জলজ প্রাণী বাস্তুসংস্থান হারাচ্ছে এবং সুপেয় পানির মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে, পানির উৎস সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শহরাঞ্চলের পানি বিশুদ্ধকরণে বাড়তি বিনিয়োগ দরকার হচ্ছে। এতে পানির সংশ্লিষ্ট ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জার্মানি ও হাঙ্গেরির মতো দেশে জ্বালানি খাতে সংকট দেখা দিয়েছে। নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পখাতে পানির ব্যবহার সীমিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকেও নতুন ধরনের জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, নদী ও পারিপার্শ্বিক বাস্তুসংস্থান রক্ষা করা না গেলে নেওয়া যে কোনো উদ্যোগের কার্যকারিতা সীমিতই থেকে যাবে।
