জার্মানিতে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে টানা খরা ও অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দেশজুড়ে বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ক্ষীণ বৃষ্টিপাত ও মাটির রুক্ষতার ফলে বিশেষ করে ফ্রাঙ্কফুর্ট এম মাইনসহ কয়েকটি শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতটা শুষ্ক পরিবেশে একটি সামান্য স্ফুলিঙ্গও দ্রুত বড় আগুনে রূপ নিতে পারে। জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে বন আগুনের সতর্কতা মাত্রা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

বাডেন-ভুর্টেমবার্গে দমকল বাহিনীর প্রচেষ্টায় স্টুটেনসে বন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে হেসেন রাজ্যে চলতি বছরের শুরু থেকে শতাধিক ছোট-বড় বন আগুনের ঘটনা ঘটেছে, এতে ১ লাখ ৬৫ হাজার বর্গমিটার বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট, মারবুর্গ ও বাদ ফিলবেলের মতো শহরে জননিরাপত্তার জন্য খোলা জায়গায় বারবিকিউ কিংবা খোলা আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষত বাভারিয়া, বাডেন-ভুর্টেমবার্গ, হেসেন, ব্রান্ডেনবুর্গ ও স্যাক্সনি অঞ্চলগুলোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ২ হাজার ৬২৬ হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। শুধুমাত্র স্যাক্সনি অঞ্চলে গোহারিশহাইড এলাকার ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড দেশটির অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সারাদেশে গত বছর ১ হাজার ১৭৫টি বন আগুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অগ্নিকাণ্ডের ২০ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে এবং ২৭ শতাংশ অসর্তকতাবশত ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।