ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি স্বাস্থ্য সেবাকে উন্নত করতে পারে—তবে কোনো অবস্থাতেই এটি চিকিৎসকদের বিকল্প হতে পারে না। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বর্ষপূর্তিতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা ব্যবহার করা যেতে পারে; তবে ক্যান্সার শনাক্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভার কোনো যন্ত্রের ওপর দেওয়া উচিত নয়।
ভন ডার লেয়েন আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমৃদ্ধ ম্যামোগ্রাফি প্রযুক্তি আগের তুলনায় বেশি এবং দ্রুত ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারছে, যা বহু নারীর জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমিশনার জানিয়েছেন, ইউরোপীয়ান ব্লক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্পের অগ্রগতি নিশ্চিতে স্বাস্থ্যখাতকে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতের একটি হিসেবে দেখতে চায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বায়োলজিক্যাল ডেটা সুরক্ষা, আইনি দায়বদ্ধতা, জনবলের প্রস্তুতি এবং বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিসহ বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে ইউরোপসহ বিশ্বের মাত্র ৮ শতাংশ সদস্য দেশ চিকিৎসা-সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রস্তুত করেছে।
ভন ডার লেয়েন আরও জানান, স্বাস্থ্য, পরিবহন, কৃষি-খাদ্য, উন্নত উৎপাদন, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশসহ ছয়টি ক্ষেত্র নিয়ে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ আগামী নভেম্বরে উন্মোচন করবে ইউরোপীয় কমিশন।
