জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও বুলগেরিয়ায় কিছু প্রধান খাদ্যপণ্যের পাইকারি দামে কমতির প্রবণতা দেখা গেছে। দেশটির সরকারি বাণিজ্য বোর্ড ও বাজার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে চালের কেজি দাম ১.৭১ ইউরো থেকে কমে ১.৬৩ ইউরোতে নেমে এসেছে। মসুর ডালের দামও ২.১১ ইউরো থেকে কমে হয়েছে ২ ইউরো।
এছাড়া, নির্দিষ্ট ধরনের ময়দার কেজি দাম ০.৭৭ ইউরো থেকে কমে ০.৭০ ইউরোতে এবং সসেজের দাম প্রায় ৩.২ শতাংশ কমে ২.৭৭ ইউরো থেকে ২.৬৮ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।
তবে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও সাধারণ ক্রেতারা সুপারমার্কেট ও খুচরা দোকানে এর সুফল খুব বেশি পাননি। কারণ পরিবহন, সংরক্ষণ, লজিস্টিকস এবং কর্মচারী ব্যয়ের পাশাপাশি দোকানের নিজস্ব লাভের হারও চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যে যুক্ত হয়। ফলে পাইকারি দামে কমতি এলেও, সেই হারে খুচরা দামে পড়ছে না এর প্রভাব।
বুলগেরিয়ার জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরোটা জুড়ে দেশটিতে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। জানুয়ারিতে মাসিক মুদ্রাস্ফীতি ছিল ০.৬ শতাংশ এবং বার্ষিক হার ৩.৫ শতাংশ। এরপর মাসভেদে এই হার সামান্য ওঠানামা করে; ফেব্রুয়ারিতে বার্ষিক হার দাঁড়ায় ৩.৩ শতাংশ, মার্চে ৪.১, এপ্রিলে ৬.৮, মে মাসে ৬.৯, জুনে ৫.৪, জুলাইয়ে ৪.৫ এবং আগস্টে ৫.১ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিকভাবে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপ এখনো বিদ্যমান। পাইকারি দামের আশানুরূপ পতন সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রবণতাকে এখনও সামাল দিতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্তভাবে গ্রাহকরা বাজারে গিয়ে যে দাম পরিশোধ করছেন, তা হিসাবেই প্রকৃত অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।
