একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের সমুদ্রের পানির দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। গবেষকরা জানান, এই বছর গ্রীষ্মকালে ভূমধ্যসাগরের পানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পশ্চিম ইউরোপের সাগরে ১.৩ থেকে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অতিরিক্ত উষ্ণতা যোগ করেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। এই গবেষণাটি পর্যবেক্ষণ তথ্য এবং জলবায়ু মডেলের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংযোগ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, মাছ এবং সামুদ্রিক প্রাণীরা অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, ফলে উপকূলীয় মৎস্য ও জলজ প্রাণী চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, সমুদ্রের পানির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে আর্দ্রতা বেড়ে যায় এবং চরম গরমের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলেই প্রবাল প্রাচীরসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্বের মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা টানা দ্বিতীয়বারের মতো নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভূমধ্যসাগরের কিছু অংশে মাসের সবচেয়ে গরম দু’সপ্তাহে পানির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি বেশি হয়েছে। বিস্কে উপসাগর ও ইবেরিয় উপকূলের ৯০ শতাংশ এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের ৮০ শতাংশ এলাকায় তীব্র জলবায়ুগত উষ্ণতার প্রভাব দেখা গেছে।

গবেষকরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে উষ্ণ সমুদ্রপানি সাঁতারুদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও গভীর জলের জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।