বেলজিয়ামে এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রকৃতিতে ২৩৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ে রেকর্ডকৃত ১১৫টি অগ্নিকাণ্ডের দ্বিগুণেরও বেশি। গত দুই সপ্তাহেই নতুন করে আরও ১১৭টি অগ্নিকাণ্ড সংযোজিত হয়েছে, যদিও হোয়ে ভেনেন্স এলাকার সাম্প্রতিক বৃহৎ অগ্নিকাণ্ডটি এখনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি গড় হিসেবে প্রতি বছর প্রায় ৬২টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে থাকে। চলতি বছরের অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এসব অগ্নিকাণ্ড বৃদ্ধির প্রধান কারণ অত্যধিক খরা এবং দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকা গরম আবহাওয়া, যার ফলে মাটি এবং গাছপালার আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় ৭৭ শতাংশ অর্থাৎ ১৮০টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে গ্রীষ্মে। অগ্নিকাণ্ডের ভৌগলিক বিস্তৃতিও পরিবর্তিত হচ্ছে; এবার ফ্লেমিশ অঞ্চলে মোট অগ্নিকাণ্ডের ৫৭ শতাংশ এবং ভ্যালুন অঞ্চলে ৪৩ শতাংশ ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে লিমবার্গ এলাকা, যেখানে ২৬ শতাংশ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এরপর রয়েছে নামুর (১৫ শতাংশ), পশ্চিম ফ্লান্ডারস এবং লুক্সেমবার্গ (প্রত্যেকে ১২ শতাংশ)।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্বল্পস্থায়ী স্থানীয় বৃষ্টিপাত কয়েক মাসের দীর্ঘমেয়াদি খরা কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ট নয়। তাঁদের মতে, অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, কৃষক, গবেষক, ভূমি কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।

ইউরোপজুড়েও এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বেড়েছে। ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত ৩০ হেক্টরের বেশি আয়তনের ১ হাজার ৬২০টি অগ্নিকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে; এতে মোট ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।