ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গ্রিনল্যান্ডে ডিজিটাল সংযোগ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ খাতে সমর্থনের লক্ষ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ২০০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নিউকে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেডেরিকসেন এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, নতুন চুক্তির ফলে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

এই বিনিয়োগ প্যাকেজের আওতায় গ্রিনল্যান্ডের স্যাটেলাইট সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূরবর্তী ও উত্তরাঞ্চলের বসবাসযোগ্য স্থানে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ এবং বাস্তব উন্নয়নের কাজ করা হবে। পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আরও দ্রুত ব্রডব্যান্ড সুবিধা পৌঁছানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইইউ'র অর্থায়ন গোটা অঞ্চলটিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং নবায়নযোগ্য হাইড্রোজেন খাতে কলকারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের মাল্মবিয়ের্গ মলিবডেন খনি এবং আমিতসোক গ্রাফাইট প্রকল্পে ইইউ সরাসরি বিনিয়োগ করবে। ইইউ কমিশনের প্রধান জানান, মাল্মবিয়ের্গ প্রকল্পটি থেকেই দেশটির বছরে ৯০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বাড়তি রাজস্ব আসতে পারে। এ ছাড়া, আগামী দীর্ঘমেয়াদি বাজেটে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডকে ইইউ'র আর্থিক সহায়তা ৫৩০ মিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরো প্যাকেজের আওতায় আবাসন, স্থানীয় ব্যবসা, টেকসই পর্যটন ও যুবকদের জন্য শিক্ষা কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভন ডার লায়েন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণেরই রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, বৈধতা ও সীমান্তের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেন।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিলসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং পারস্পরিক সহায়তা দু' পক্ষেরই প্রয়োজন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করা বর্তমানে খুব জরুরি। উল্লেখ্য, ডেনমার্কের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।