বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি দ্রুতগতিতে মানুষের ডিজিটাল গোপনীয়তা হুমকির মুখে ফেলছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য, বার্তা, অবস্থান এবং অনলাইন অভ্যাস অনেক সহজে উন্মোচিত হতে পারে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার রামেজান জানান, অনেক সময় ব্যবহারকারীরা নিজের অজান্তেই বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

একজন ব্যবহারকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদান করছেন কি না, সেটিই শুধু ঝুঁকির বিষয় নয়—বরং স্মার্ট ডিভাইস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কেনাকাটা, গেইয়েবল প্রযুক্তি কিংবা অনলাইন ঘাঁটাঘাঁটি মিলিয়ে ব্যক্তিগত আচার-আচরণ ও পছন্দের উপর বিশদ প্রোফাইল তৈরি সম্ভব হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক কিম কোমান্ডো পরামর্শ দিয়েছেন, অনলাইনে শেয়ার করা প্রতিটি তথ্য এমনভাবে ভাবা উচিত যেন একদিন তা প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।

একই সঙ্গে গবেষকেরা সাম্প্রতিক একটি নিরাপত্তা দুর্বলতার উদাহরণ দিয়েছেন, যা 'মেমোরি হাইস্ট' নামে পরিচিত এবং এটি ক্লড নামক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্ট সংক্রান্ত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক যাচাইকৃত গবেষণাপত্রে দেখা যায়, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতায় সহজ এক ধরনের স্ক্যানিং কমান্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংরক্ষিত তথ্য কোনো সাইবার অপরাধীর নিয়ন্ত্রিত সার্ভারে চলে যেতে পারে।

অ্যানথ্রোপিক কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, এই ত্রুটিটি ইতোমধ্যে ঠিক করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অনলাইনে শেয়ার করার আগে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সেটিংসবারবার যাচাই করুন। কখনোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক তথ্য বা গোপনীয় তথ্য শেয়ার করবেন না।