ইতালির ভেনিসে কা’ ফস্কারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পাহাড়ি হিমবাহের গলনের হার নির্ণয়ে অভিনব সফটওয়্যার তৈরি করেছেন। গবেষকদলের নেতৃত্বে ছিলেন নিকোলো মাফেজোলি। তারা IceBoost v2.0 নামের এই সফটওয়্যার দিয়ে সাত মিলিয়নের বেশি পরিমাপ বিশ্লেষণ করেন এবং পাহাড়ি পৃষ্ঠের ঢাল, তাপমাত্রা ও বরফপ্রবাহের গতি—এ ধরনের ২৬টি ভৌত উপাদানকে বিবেচনায় নেন। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই পদ্ধতিতে হিমবাহের গলনের পূর্বাভাস আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি নির্ভরযোগ্য।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের জেইকি প্ল্যাটো অঞ্চলে ২ কিলোমিটার পুরুত্বের হিমবাহ শনাক্ত হয়েছে, যা পূর্বের হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ। গবেষকরা বলছেন, অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ড বাদে পৃথিবীর অন্যান্য পাহাড়ি অঞ্চলে এখনো প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ঘন কিলোমিটার বরফ জমা রয়েছে। এই বরফ সম্পূর্ণ গলে গেলে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠ ৩২ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। হিমালয়, আল্পস ও আন্ডিজের বরফের গলন গতিতে তুষারপাতের মাধ্যমে নতুন বরফ সংযোজনের চেয়ে অনেক দ্রুত হচ্ছে। এতে নদীনির্ভর পৃথিবীর প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানির ঝুঁকিতে পড়েছেন।
ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস ও ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের কম্পিউটার মডেল বলছে, চলমান বরফগলা ও সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২৩শ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৭ লাখ বাড়ি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। স্যাটেলাইট তথ্য জানায়, ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের উচ্চতা গড়ে ৯ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার বেড়ে গেছে এবং ২০১২ সালের পর বার্ষিক বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১ মিলিমিটারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হিমবাহ ও সাগরের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া ধীর গতির হওয়ায় এই প্রবণতা আগামী শতাব্দীগুলোতে জারি থাকতে পারে।
