বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশন ও মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণকারী অংশ হিপোক্যাম্পাসে কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে একটি নতুন সম্পর্ক রয়েছে। 'ট্রান্সলেশনাল সাইকিয়াট্রি' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ৫০ থেকে ৯০ বছর বয়সী দুই হাজারেরও বেশি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের আগে ডিপ্রেশনের ইতিহাস ছিল।

গবেষকরা মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের CA2, CA3 ও ডেন্টেট গিরাস নামক উপ-অঞ্চল নিয়ে গঠিত CA23DG অঞ্চলের আকার ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট বলে শনাক্ত করেছেন। বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক গঠন ও জীবনযাপনের অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেও এই সম্পর্ক মিলেছে। পাশাপাশি অ্যালঝেইমার রোগের জন্য পরিচিত বিভিন্ন জিনগত বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে অ্যামিলয়েড ও টাউ প্রোটিন, এমনকি APOE ε4 জিন ভ্যারিয়েন্টের বিষয়টি বিশ্লেষণেও এই ফলাফলে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি।

গবেষণা আরও জানিয়েছে, যত বেশি সময় ধরে কেউ ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন, হিপোক্যাম্পাসের CA23DG অঞ্চলের আকার ক্ষয়ও তত বেশি দেখা যায়। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা শুধুমাত্র সহাবর্তিত সম্পর্ক (করেলেশন) দেখিয়েছে, ডিপ্রেশন বা এ সম্পর্কিত ওষুধ ব্যবহারের কারণে সরাসরি এই ক্ষয় হয়—এমনটা নিশ্চিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের প্রভাব এবং স্থায়ী বা গুরুতর ডিপ্রেশনের আলাদাভাবে প্রভাব জানতে হলে চিকিৎসা শুরুর আগে ও পরে বড় পরিসরের দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা জরুরি। এই প্রাথমিক ফলাফলে উদ্বিগ্ন না হয়ে, কারও উচিত নয় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকে ওষুধ বন্ধ করা।