স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার অভ্যাস মানুষের সময়ের অনুভূতি ও মনোযোগকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছেন জার্মানির লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ানস বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড. ঝুয়াংহুয়া শি। তার গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা নিজস্ব গতিতে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওর মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর সময় বাস্তবের এক মিনিটকে অনেক সময় মাত্র ৩০ সেকেন্ড হিসেবে অনুভব করেন। এতে মস্তিষ্ক বিস্তারিত তথ্য মনে রাখার বদলে কেবল সামগ্রিক ছাপ রাখে।

ড. শি বলেন, স্মার্টফোন কেবল পাশে থাকার কারণে কিংবা ব্যবহার শেষে কিছুক্ষণের জন্য মনোযোগ বাড়লেও, সেটির উপস্থিতি পুরোপুরি মনোযোগ ধরে রাখতে বাধা দেয়। শুধু ফোনটি চুপ করে রাখা কিংবা উল্টে রাখা যথেষ্ট নয়— মনোযোগ ধরে রাখতে ফোনটিকে সম্পূর্ণ অন্য ঘরে রেখে দেওয়া এবং ঘুমানোর ঘরে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া, অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে একক কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছেন এই গবেষক।

বিশেষত শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে, আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বিশের ঘরে পৌঁছানো না পর্যন্ত পুরোপুরি বিকশিত হয় না উল্লেখ করে ড. শি বলেন, তরুণেরা ফোনে কাটানো নির্দিষ্ট সময় অনেকটা কম ভেবে থাকে। তিনি কঠোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে অবিরাম স্ক্রল ও স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চলার ফিচার তুলে নেওয়া, লাইক সংখ্যা গোপন রাখা, সময় দেখানোর ব্যবস্থা রাখা এবং বাধ্যতামূলক বিরতির ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছেন। শেষে, ডিজিটাল ক্লান্তি কাটাতে প্রাকৃতিক পরিবেশে ২০ মিনিটের হাঁটার গুরুত্বও তুলে ধরেন গবেষক।