বেলজিয়ামে চলমান তাপপ্রবাহ ও পানির স্বল্পতার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে আলু, গম ও টমেটোসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ফসল সংগ্রহ আশানুরূপ হচ্ছে না। অনেক কৃষক এবারের মৌসুমকে ইতোমধ্যেই 'দুর্যোগপূর্ণ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। কৃষি উৎপাদনের এই সংকটের প্রভাব আগামী মাসগুলোতে বাজারমূল্যে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে দৈনন্দিন কেনাকাটা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে পারেন তারা। বর্তমানে দেশটির বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২ দশমিক ৫০ ইউরোতে, নাশপাতि ২ দশমিক ০৯ ইউরো এবং আলু প্রায় ১ দশমিক ৫০ ইউরোতে। যদিও এই মুহূর্তে দাম স্থিতিশীল থাকলেও, কিছু সুপারমার্কেট স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে— যেন পণ্যের সরবরাহ ও দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
আলু চাষি ম্যাথিউ কোমেইনের কথা অনুযায়ী, এক মাস আগে চাহিদাহীন এক জাতের আলুর দাম এখন প্রতি টন ২০০ ইউরোতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরিতে ব্যবহৃত উপযোগী আকারের আলুর উৎপাদন হ্রাস— বাজারে চাহিদা ও জোগান সংকটে রেখেছে, যা দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম কতটা এবং কবে বাড়বে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, উৎপাদনের দেশভেদে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের খরার মাত্রার ওপর এই পরিবর্তন অনেকটাই নির্ভরশীল। ভোক্তা পর্যায়ে দ্রব্যমূল্য গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। তবে খরা পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী মৌসুমেও বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
