ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল রেকর্ড গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের (C3S) সাম্প্রতিক তথ্য মতে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে অঞ্চলটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। জুন ও জুলাই মাসের গড় তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২২ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহের কারণে সেসব দেশে খরা দেখা দিয়েছে, একইসঙ্গে নানা স্থানে লেগে গেছে বন-জঙ্গলেও আগুন। গত বছরের তুলনায় পশ্চিম ইউরোপের মাটিতে আর্দ্রতা অনেকাংশে কমে গেছে।

২০২৬ সালের জুন মাসটি ইউরোপে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রার মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলাই মাসেও ২২ দশমিক ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা ধারণ করেছে, যা এই সময়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গ্রীষ্মমৌসুমে সেখানে চার দফা তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটেছে। নদ-নদীর পানির স্তর কমে গেছে। ফলে পানি সংকট, কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—এ সব ক্ষেত্রেই চাপে পড়েছে দেশগুলো।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা ও খরা একে অপরকে আরও তীব্র করছে এবং মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এছাড়া জুলাই মাসে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও রেকর্ড হয়েছে এবং এল নিনোর প্রভাব চলেই যাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী চলমান কার্বন ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত গ্যাসই এই অস্বাভাবিক উষ্ণতার প্রধান কারণ। পশ্চিম ভূমধ্যসাগর ও আটলান্তিক উপকূলীয় এলাকাতেও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রেকর্ড হয়েছে।