২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জার্মানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য উৎসের অবদান নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। দেশটির ফেডারেল পরিসংখ্যান সংস্থা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ৫৯.১ শতাংশ এসেছে বায়ু, সৌর এবং বায়োগ্যাস থেকে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৬.৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন কিলোওয়াটঘাট হয়েছে।

নবায়নযোগ্য খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে বায়ু শক্তি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে একক উৎস হিসেবে বায়ু শক্তির অবদান ছিল ২৯.৪ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধির পেছনে আগের বছরের ব্যতিক্রমধর্মী কম বায়ু প্রবাহের সময়কালিক প্রভাব রয়েছে। এরপরেই রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ, যার অবদান ২১.৪ শতাংশ, যদিও এটি ০.৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া সৌর শক্তির অবদান ছিল ১৭.৮ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অবদান ছিল ১৬.৫ শতাংশ।

পরিসংখ্যান সংস্থা জানিয়েছে, প্রচলিত জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার কমে ৪২ শতাংশ থেকে ৪০.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। সমগ্র সময়ে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন কিলোওয়াটঘাটে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ বেশি। এই সময়ে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ ৮.৭ শতাংশ কমে ৩৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন কিলোওয়াটঘাটে নেমে এসেছে। অপরদিকে, বিদ্যুৎ রপ্তানি বেড়ে ৩৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন কিলোওয়াটঘাট হয়েছে, যা ১৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান কমে ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন কিলোওয়াটঘাট থেকে ০ দশমিক ৬ বিলিয়ন কিলোওয়াটঘাটে নেমে এসেছে।

জার্মান সরকার ২০৩৮ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ধাপে ধাপে বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। এ ক্ষেত্রেও সৌর ও বায়ু-বিদ্যুৎ পর্যাপ্ত না থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।