যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দণ্ডিত রাটকো এমলাদিচের জানাজা বৃহৎ পরিসরে সার্বিয়াের রাজধানী বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে হাজারও মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং সামরিক সম্মান প্রদর্শন করা হয়। সার্বিয়ান গণমাধ্যম এই অনুষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই জানাজার কিছু দৃশ্যকে গভীর উদ্বেগ ও হতবাক হওয়ার বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এবং ইইউ কাউন্সিলের প্রধান আন্তনিউ কোস্টা জানাজায় শীর্ষ সার্বিয়ান কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বেলগ্রেডের টপচিদার কবরস্থানে আয়োজিত জানাজায় ৩০০’র বেশি অর্থডক্স ধর্মযাজক এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রী অংশ নেন। বোসনিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ মিলোরাদ ডডিক এবং সেখানকার প্রেসিডেন্সির সার্ব প্রতিনিধি জেলজা চিভিয়ানোভিচও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সার্বিয়াের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সফরের কারণে অংশ নেননি, তবে তার ছেলে দানিলো ভুচিচ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলমেদিন কোনাকোভিচ জানাজাকে কার্যত রাষ্ট্রীয় ইভেন্টে পরিণত করার বিরোধিতা করেছেন এবং এ ঘটনার প্রতিবাদে বেলগ্রেডে থাকা নিজেদের দূতাবাসের বেশিরভাগ কর্মীকে ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
রাটকো এমলাদিচ চলতি বছরের ২৭ আগস্ট নেদারল্যান্ডসের দি হেগে ৮৪ বছর বয়সে মারা যান। তিনি সাবেক বসনীয় সার্ব সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং ১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যাসহ যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে যাবজ্জীবন কারাভোগ করছিলেন। স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ডে ৮ হাজারের বেশি মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করা হয়েছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করা, গণহত্যার অস্বীকার এবং ইতিহাস বিকৃতি ইউরোপীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। এসব ঘটনার জেরে ইইউর সম্প্রসারণবিষয়ক কমিশনার মার্টা কোস বেলগ্রেড সফর বাতিল করেছেন। একইসঙ্গে সার্বিয়ার সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা স্থগিত এবং আর্থিক সহায়তা বন্ধ রাখা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
