ইউরোপজুড়ে ফের ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১,১০০ ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে উত্তর মেসিডোনিয়ায় এ রোগে অষ্টম মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এখনো মানুষের জন্য এই ভাইরাসের কার্যকর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা অনুমোদন পায়নি। ফলে সতর্কতাই একমাত্র ভরসা।
বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত কেবল পাখি ও ঘোড়ার মধ্যে এই ভাইরাস ধরা পড়েছে, মানুষের মধ্যে সংক্রমণের খবর নেই।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাখির মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ভাইরাসে সংক্রমিত পাখিকে কামড় দিলে মশা এ রোগ বহনকারী হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেই মশা মানুষকে কামড়ালে ভাইরাসটি দেহে ছড়ায়। এ ভাইরাস ছড়াতে বিশেষ ধরনের মশার প্রয়োজন পড়ে না, সাধারণ মশাও সহজেই এ রোগ ছড়াতে পারে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার উপদ্রব বেড়ে যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ভাইরাসটি আরও বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারছে।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক স্নায়ুতান্ত্রিক জটিলতা নেমে আসতে পারে, এমনকি হতে পারে স্থায়ী ক্ষতিও। মশার কামড়ের পর যদি উচ্চ জ্বর, চামড়ায় ফুসকুড়ি বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মশার দংশন থেকে বাঁচতে পুরো হাত-পা ঢাকা কাপড় পরা, মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহার এবং বাসায় জানালা-দরজায় জাল লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
