রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রুশ বাহিনীকে ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন শেষে পুতিন এই ঘোষণা দেন।

পুতিন বলেন, ইউক্রেন হুমকি স্বরূপ ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনা ও তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করছে। এসব হামলায় কিছু শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ইউক্রেন যদি রাশিয়ান বেসামরিক বিমান চলাচলে হুমকি দেয়, তবে সেটিকে 'রাষ্ট্রায়িত সন্ত্রাস' হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং রাশিয়া শক্তিশালী জবাব দেবে। পুতিন জানান, সোমবার রাতেই তিনটি তেল শোধনাগারে হামলার চেষ্টা হয়েছে, যদিও এগুলো ব্যর্থ হয়েছে। এসব শোধনাগারের সংস্কারকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পুতিন স্বীকার করেন, আলোচনা এখন কার্যত স্থগিত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগস্ট মাসে রুশ বাহিনী দোনেৎস্ক অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং ১৫টি জনপদ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

নতুন করে সামরিক বাহিনীতে সেনা সংযোজনের গুজব প্রত্যাখ্যান করে পুতিন আরও বলেন, ইউক্রেনের কালো সাগর ও আজভ সাগর এলাকায় পরিচালিত হামলায় প্রায় ১০০টি রুশ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশিয়া-আর্মেনিয়া সম্পর্ক নিয়েও প্রেসিডেন্ট পুতিন সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন। তিনি জানান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর্মেনিয়ার রাজধানী ইরেভান গুমরিতে অবস্থিত রুশ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আর্মেনিয়া সরকারের বলে মন্তব্য করেন পুতিন।