বেলজিয়ামের ট্রাফিক নিরাপত্তা সংস্থা ভিয়াস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভুক্তভোগী পথচারী ও সাইকেলচালক— অর্থাৎ দুর্বল রোড ব্যবহারকারীরা। মোটর চলাচলকারী সব ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় এ হার যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ, সেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গাড়িতে প্রচলিত মোটর শব্দ না থাকার কারণে পথচারীরা সতর্ক হতে পারেন না, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
গত পাঁচ বছরে বেলজিয়ামে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে— ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন তা ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ম অনুযায়ী, সব বৈদ্যুতিক গাড়িতে ‘অ্যাকুস্টিক ওয়ার্নিং সিস্টেম’ বা কৃত্রিম শব্দ তৈরির যন্ত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে কম গতিতে বিশেষ শব্দ তৈরি হয়, যাতে পথচারী ও সাইকেলচালকরা গাড়ির অবস্থান বুঝতে পারেন।
তবে সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে, এই শব্দ ব্যবস্থা প্রত্যাশিত মাত্রায় কার্যকর নয়। গাড়ি চলার সময় শব্দের মাত্রা অনেকক্ষেত্রে এতটাই কম যে, ২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে চলা প্রতি পাঁচটি হাইব্রিড গাড়ির একটি রাস্তার অন্য ব্যবহারকারীদের নজরে আসে না। আবার ১০ কিলোমিটার গতিতে, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি সাধারণ মোটরচালিত গাড়ির তুলনায় আরও বেশি পথচারীর দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও দৃষ্টি সীমিত ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পথচারীদের মধ্যে অনেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ির নিস্তব্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভিয়াস সংস্থার সুপারিশ, গাড়ির এই কৃত্রিম শব্দ ব্যবস্থার অন্ততঃ ন্যূনতম উচ্চতা বাড়ানো এবং এমন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহারের দিকে জোর দেওয়া উচিত, যাতে রাস্তার সকল শ্রেণির ব্যবহারকারীরা দ্রুত ও স্পষ্টভাবে গাড়ির উপস্থিতি অনুধাবন করতে পারেন।
