জাপানের ইওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, গৃহপালিত বিড়ালেরা একে অপরকে প্রস্রাবের ঘ্রাণ থেকে চিনতে পারে। এই গবেষণা দলে জাপান, জার্মানি ও স্পেনের বিজ্ঞানীরা অংশ নেন।
গবেষকরা বিড়ালদের আচরণগত পরীক্ষা এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণের সমন্বয়ে দেখতে পান, প্রতিটি বিড়ালের প্রস্রাবের ঘ্রাণে রয়েছে নির্দিষ্ট এক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ব্যক্তিগত পরিচয় হিসেবে কাজ করে। পরীক্ষায় বিভিন্ন বিড়ালের প্রস্রাবের ঘ্রাণ বিড়ালদের সামনে উপস্থাপন করা হলে দেখা যায়, পরিচিত ঘ্রাণ ফিরে আসলে তাদের কৌতূহল কমে যায়, অপরিচিত নতুন ঘ্রাণের ক্ষেত্রে আবার কৌতূহল বাড়ে।
এমনকি কয়েক মাস পরে একই ঘ্রাণ উপস্থাপন করলেও বিড়ালদের প্রতিক্রিয়ায় তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা ইঙ্গিত দেয়—এরা দীর্ঘ সময় সেই ঘ্রাণ স্মরণে রাখতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে সিংহ, বাঘ, চিতা, জাগুয়ার ও লিংক্স প্রজাতির বড় বিড়ালদের ঘ্রাণও পরীক্ষা করেছেন। এসব বন্য বিড়ালদের মধ্যেও ভিন্ন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে, তারা এই বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে একে অপরকে চিনতে পারে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি গবেষকরা।
সম্প্রতি এই গবেষণার ফলাফল বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'কারেন্ট বায়োলজি'তে প্রকাশিত হয়েছে।
