বেলজিয়ামের জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা সংস্থা 'ইনামি' প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মানসিক ও আচরণগত সমস্যার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর ঘটনা প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্মক্ষমতা হারানোর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হতাশা ও কর্মক্ষয়। ২০২৫ সালের শেষে যেসব ব্যক্তি এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজে ফিরতে পারেননি, তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশের বেশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার শিকার। এদের প্রায় ৭০ শতাংশই হতাশা বা কর্মক্ষয়ে ভুগছেন। ২০২৫ সালে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬০ জনে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৪ এবং ২০২১ সালে ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৫২ জন।
হতাশা ও কর্মক্ষয়জনিত কারণে চাকরিতে অক্ষম হয়ে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি। ২০২৫ সালে এদের মধ্যে ৫৩ শতাংশই ৫০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী। নারী রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই বৃদ্ধির হার পুরুষদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্বপেশার বাইরে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে স্বনিযুক্তদের মধ্যে হতাশা ও কর্মক্ষয়জনিত অক্ষমতার সংখ্যা ৭ হাজার ৭৩১ থেকে বেড়ে ৮ হাজার ৭২০-এ পৌঁছেছে, যা ১২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও এ হার ৫ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে কর্মক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সহযোগিতা বাবদ ব্যয় ২০২৪ সালে দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি।
