নেদারল্যান্ডসের কোম্পানিগুলোকে চরম তাপদাহ, খরা এবং অতিবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতির জন্য দ্রুত ও কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির অন্যতম ব্যাংক এবিএন অ্যামরো। ব্যাংকটির সাম্প্রতিক এক খাতভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে এসব প্রতিষ্ঠান।

প্রবীণ বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ছাদের ওপর সবুজায়ন, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি এবং তাপদাহে কর্মপরিকল্পনা পরিবর্তনের মতো উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেলে প্রতি ডিগ্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা প্রায় ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। বিশেষত যেসব কর্মী বাইরের পরিবেশে বা সংকীর্ণ-উত্তপ্ত স্থানে কাজ করেন, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

গবেষকদের মতে, দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। তবে, কোন তাপমাত্রার বেশি হলে কাজ বন্ধ করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। যদি চুক্তিভিত্তিক কোনো শর্ত না থাকে, তাহলে বাধ্যতামূলক বিরতির ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তার দায়ভার প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।

চরম উষ্ণতা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাব অন্যতম বেশি পড়ছে কৃষি, অভ্যন্তরীণ পরিবহন, সরবরাহ ও স্বাস্থ্য খাতে। পানির স্তর কমে যাওয়ায় নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিপণ্য সময়ের আগেই পরিপক্ক হয়ে ফলনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

এছাড়া পশুখাদ্য ও নির্মাণ খাতও কাঁচামাল বিপণন বা সরবরাহে বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অপরদিকে, তীব্র তাপদাহে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে, বাজারে ফ্যান, বাগানের আসবাব, সুইমিংপুল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের চাহিদা বৃদ্ধি এসব খাতে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে পারে।