আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রকাশিত "২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক তরুণ কর্মসংস্থান প্রবণতা" শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বজুড়ে তরুণদের চাকরি পাওয়া ও নিরাপদ কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ আগের তুলনায় আরও সংকুচিত হয়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ২০২৫ সালে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়াবে ১২ দশমিক ৪ শতাংশে, যা সংখ্যায় ৬৭ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৭০ লাখ।

ইতিমধ্যে কর্মসংস্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিংবা কোনো ধরণের পেশাগত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেই—এমন তরুণদের হার বেড়ে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে প্রভাবিত হয়েছে ২৫৭ মিলিয়নেরও বেশি তরুণ।

২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১১টি অঞ্চলের মধ্যে ৮টিতেই তরুণ বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ আয়ের অর্থনীতিগুলোতে এই বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। উত্তর আমেরিকার তরুণ বেকারত্বের হার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপে এই হার ২০২৫ সালে ১৫ শতাংশে থাকছে। ইউরোপের ২৯টি দেশের মধ্যে ২০টি দেশ তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। আরব দেশগুলোতে তরুণ বেকারত্ব দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ২ শতাংশে, উত্তর আফ্রিকায় এই হার ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।

আইএলও বলেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, পর্যাপ্ত নতুন কর্মসংস্থানের অভাব, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন—এইসব কারণ তরুণদের শ্রমবাজারে প্রবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে ঝুঁকিতে থাকা পেশাগুলোতে ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের ৬ দশমিক ১ শতাংশই কাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামনে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তরুণদের কর্মসংস্থানে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আইএলও সুপারিশ করেছে—মানসম্মত শিক্ষা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ, চাকরি সংক্রান্ত সেবা জোরদারকরণ, সামাজিক সুরক্ষার বিস্তৃতি এবং তরুণদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।