জার্মানিতে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ মাত্র ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। আইন অনুযায়ী, নভেম্বরের ১ তারিখের মধ্যে এই মজুদ কমপক্ষে ৮০ শতাংশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সর্বশেষ ছাড় ও হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, ৭১ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জার্মান গ্যাস ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, এই লক্ষ্যটিও অর্জন প্রায় অসম্ভব।
দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সরাসরি বাজারের ওপর নির্ভরশীল নীতিতে অবিচল থাকায় আগামী শীতকালে সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ, খাতসংশ্লিষ্টরা ও বিরোধীদল বলছে, সরকার যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে—তা আসন্ন শীত মৌসুমে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। এদিকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিছু কার্যকর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। যদিও গ্যাসের মজুদ, এলএনজি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি নিয়মিত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে, তবে বাজারে হস্তক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং এর ফলে গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার কারণে জার্মানির বিভিন্ন কোম্পানি গ্রীষ্মকালে তুলনামূলক কম দামে গ্যাস কিনে মজুদ করার সুযোগ থেকেও পিছিয়ে যাচ্ছে।
এ নিয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে সংসদের বিরোধী দলগুলো। ‘আলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ পার্টির সহ-সভাপতি অ্যারিস ভাইডেল সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে ‘গ্রীন’ পার্টির জ্বালানি নীতিবিষয়ক মুখপাত্র মিশেল কেলনার সতর্ক করেছেন, দেশে গ্যাসের সংকট অব্যাহত থাকলে শীত মৌসুমে আরও বেশি দামে গ্যাস আমদানি করতে হতে পারে।
এদিকে ইউরোপিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী টোবিয়াস পাওলুন মনে করছেন, শুধুমাত্র বাজার-নির্ভর কৌশলে গ্যাস মজুদ বাড়ানো সম্ভব নয়। তাঁর মতে, সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
