জার্মানিতে শরণার্থী আবেদন এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাতদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা কমলেও, নিজ ইচ্ছায় দেশ ছেড়ে যাওয়া বিদেশিদের সংখ্যা বেড়েছে। জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৭ হাজার ৮৯২ জন বিদেশি স্বেচ্ছায় জার্মানি ছেড়েছেন। এ সময়ে, যেসব শরণার্থী আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং আর্থিক সহায়তায় নিজ দেশ ফিরেছেন, তাদের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২৭৬।
একই সময়ে পুলিশের সহায়তায় জোরপূর্বক সীমান্তচ্যুত করা হয় ৯ হাজার ৬৬৩ জনকে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮.২ শতাংশ কম। সরকার বলছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে কঠোর অভিবাসন নীতি ও সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানোর কারণে আশ্রয়প্রার্থী এবং জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর সংখ্যা কমেছে।
এছাড়া, নিরাপত্তার কারণে কিছু ফ্লাইটের পাইলটরা ব্যক্তিদের বহন করতে অস্বীকৃতি জানানোয় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর সংখ্যা আরও কমে গেছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনা ৫১৪টি ঘটলেও, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তা ২৮০-তে নেমে এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার মানুষের দেশে থাকার বৈধতা নেই এবং তারা জার্মানি থেকে চলে যেতে বাধ্য। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশের শরণার্থী আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বাকি যারা আছেন তারা মূলত কাজের ভিসায় এসে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, অথবা পর্যটক ও শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ করে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে স্বদেশে ফেরেননি।
উল্লেখ্য, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনেক ব্যক্তিকে তাদের নিবন্ধিত ঠিকানায় না পাওয়ায়, কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনিকভাবে বেশ জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
