ইউরোপজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় এই খাতের বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে। সোমবার নেদারল্যান্ডসের শীর্ষস্থানীয় গ্যাস ফিউচার্স বাজারে দাম একদিনে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে। বর্তমানে এক মেগাওয়াট ঘণ্টা গ্যাসের দাম বেড়ে ৬৮ দশমিক ৫ ইউরোতে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।
ইউরোপের গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর গড় মজুদ এখন মাত্র ৬২ শতাংশ। গ্যাসের মজুদের এই নিম্নমাত্রা গতবার দেখা গিয়েছিল ২০০৯ সালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা, সেই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা বাড়ছে। এ নিয়ে পাত্তয়া বিশ্লেষক ফ্লোরেন্স শ্মিট জানান, পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং গ্যাস মজুদাগারগুলো এই শীতে অত্যন্ত সীমিত সহায়তা দিতে পারবে। একইসঙ্গে, নরওয়ে থেকে গ্যাস সরবরাহ সংস্কারকাজের কারণে এখনো কম এবং বাসরা উপসাগরে উত্তেজনা বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গ্যাস সংকট নিয়ে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা দেখা দিয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম শক্তি ব্যবহারকারী দেশ জার্মানিতে। দেশটির গ্যাস মজুদাগারের বর্তমান পূরণহার ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, বেলজিয়ামে গ্যাস মজুদার হার অর্ধেকেরও কম। সেখানে গ্যাস সংরক্ষণের ক্ষমতা সীমিত হলেও যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের সঙ্গে সরাসরি পাইপলাইন সংযোগ এবং জিব্রুগে তরলীকৃত গ্যাস টার্মিনাল থাকায় বেলজিয়াম শীতকালে গ্যাস মজুদের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমাতে পারছে।
