গ্রিসের পরিসংখ্যান সংস্থার শ্রমবাজার-বিষয়ক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশটির বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও কম এবং গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচের অবস্থান। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের আগের জুলাই মাসেই সর্বশেষ এর চেয়ে কম—৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেকারত্বের হার রেকর্ড করা হয়েছিল।
তবে বেকারত্ব কমলেও বাস্তবতা হলো, কর্মসংস্থানের হার প্রত্যাশামতো বাড়েনি। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রিসে কর্মসংস্থানের সংখ্যা ৪৩ লাখ ৭১ হাজার, যা ২০০৮ সালে ছিল ৪৫ লাখ ৯২ হাজার। অর্থাৎ, এখনও সে সময়ের চেয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার মানুষ কম কর্মসংস্থানে যুক্ত আছেন।
দ্বি-পরিসংখ্যান এও দেখা গেছে, কর্মক্ষমতার বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা গত ১৮ বছরে কমে এসেছে ৫ লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশি। তবে দেশটির সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জনসংখ্যা কমার কারণেই এই ইঙ্গিতিত কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বড় অংশ হয়েছে। মূলত ২০-৬৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২০০৮ সালের পর থেকে ৭ লাখ ৩৪ হাজার কমেছে। বিশেষ করে ২০-৪৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা কমেছে ১১ লাখ ৫০ হাজার, যার ফলে পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে পর্যটন, নির্মাণ ও কৃষি খাতে।
বিষয়টি নিয়ে বিকল্পনীতি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে বলা হয়, নারীদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ততা বাড়ানো, মজুরি ও কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং আধুনিক অভিবাসন নীতি গ্রহণের তাগিদ রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমবাজারের ঘাটতি কাটিয়ে তোলা সম্ভব হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
