জার্মানির একটি ডিজিটাল অধিকার সংস্থা HateAid দেশটিতে মেটার স্মার্ট চশমা বিক্রি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Meta, Ray-Ban এবং Oakley-সহ কিছু চশমা বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ইন্টারনেট অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছে। HateAid-এর দাবি, Ray-Ban Meta Wayfarer নামে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তিনির্ভর এই চশমাগুলি জার্মানির টেলিকমিউনিকেশন, ডিজিটাল সেবা ও ডেটা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করছে।
HateAid-এর মতে, এই স্মার্ট চশমাগুলো সাধারণ চশমার সঙ্গে সহজে পার্থক্য করা যায় না। এতে গোপনভাবে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলার ঘটনা বেড়ে যেতে পারে এবং মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকিতে পড়ে। সংস্থাটি জানায়, জার্মানিতে প্রায় ৪১ মিলিয়ন মানুষ চশমা ব্যবহার করেন, তাই চশমার ক্যামেরায় রঙিন চিহ্ন ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় জ্বলতে থাকা LED আলো আরও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। দেশটিতে জনসম্মুখে কারও অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা ও ভিডিও করার বিষয়টি অনেক কড়াকড়ির মধ্যে রয়েছে, যা ইউরোপের অন্য অনেক দেশের তুলনায় কঠিন।
সংস্থাটি বিশেষভাবে নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতা বাড়ার দিকটি তুলে ধরে বলেছে, এই কারণে স্মার্ট চশমার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। HateAid জানায়, এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারে গোপনীয়তার ঝুঁকি বেড়েছে এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরিতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা জরুরি। তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে নিপীড়নের শিকার নারীদের মাত্র এক-চতুর্থাংশ ঘটনাটি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চায় মাত্র ১৪ শতাংশ। আবেদনে ভুক্তভোগীদের আরও কার্যকর সহায়তা এবং অনলাইন ও অফলাইনে অধিকতর অধিকার সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
