চলতি গ্রীষ্মে স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও জার্মানি সহ ইউরোপের বহু দেশ ব্যাপক বন‌্যাগ্নির মুখে পড়ে। তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘমেয়াদি খরার কারণে ৬ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে যায়। শুরুর দিকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে লক্ষাধিক মানুষকে। আগস্ট মাসের শুরুতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

পটসডাম ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও শতাব্দীর শেষ নাগাদ ইউরোপে প্রতিবছর যত বন‌্যাগ্নি হয়, তার পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বাড়বে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বিশেষত ভূমধ্যসাগর, পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপে বন‌্যাগ্নির ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছরের আগস্টের শুরু পর্যন্ত ইউরোপে গত কয়েক বছরের তুলনায় দ্বিগুণ এলাকা দাউ দাউ করে পুড়ে গেছে। জার্মানির আইফেল অঞ্চল থেকে বেলজিয়ামের আর্ডেন পাহাড়ের মধ্যবর্তী হোহেস ভেন এলাকায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বন ও জলাভূমি আগুনে ছারখার হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জলাভূমির আগুন সাধারণ বন‌্যাগ্নির তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক ও জটিল। কারণ শুষ্ক হওয়ায় এগুলো মাটির নিচে মাসের পর মাস, এমনকি পুরো শীতকালও জ্বলতে পারে। এসব আগুন থেকে নির্গত ধোঁয়া, পারদের মতো ভারী ধাতু ও আরও নানা বিষাক্ত রাসায়নিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার বছর ধরে জমা কার্বনও এমন আগুনে সরাসরি বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দ্রুত কার্বন ও গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি বন‌্যাগ্নি ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। জানানো হয়েছে, ২০২১-২০২৭ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন সদস্য দেশের বন ও অগ্নি ব্যবস্থাপনায় ২.১ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, অগ্নি প্রতিরোধে প্রতি ১ ইউরো বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠনের জন্য ৭ ইউরো পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে।

গবেষকদের মতে, কার্যকর অগ্নি ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে পারলে ভবিষ্যতে বন‌্যাগ্নির ঝুঁকি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এ ধরনের বিপর্যয় একেবারে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।