বিশ্বব্যাপী খাদ্যদ্রব্যের দাম আগামী বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে গবেষণা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পরের বছর ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা, ইউরোপে চলমান তাপপ্রবাহ ও খরার পাশাপাশি জ্বালানি ও সার—এই খাতগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি বিশেষ করে গমসহ অন্যান্য শস্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পরোক্ষ প্রভাব ফেলছে। এসব সংকটের ফলে রুটি, পাস্তা, পনির, তেল ও মদের মতো খাদ্যপণ্যগুলোর দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরোপের কৃষি সংস্থা কোসেরাল জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে মোট শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন থেকে কমিয়ে ২৮৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন টনে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আগামী বছর প্রত্যাশিত ৩১০ মিলিয়ন টনের তুলনায় অনেক কম। জার্মানিতেও শস্য উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স বলছে, বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম জুলাইয়ে বছরে গড়ে ৩৬ শতাংশ এবং সারের দাম পুরো বছরজুড়ে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব গম রপ্তানি বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ভুট্টার ১০ শতাংশের বেশি জোগান দেয় ইউক্রেন ও রাশিয়া। এসব দেশের ওপর চলমান হামলা ও রপ্তানি সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববাজারে জোগান সংকট তৈরি হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে গমের দাম প্রতি কিলোগ্রামে ৬ দশমিক ৯২ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বছরে গড়ে ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাটকা খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়তে দুই থেকে তিন মাস লাগতে পারে, আর প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই সময় পাঁচ থেকে নয় মাস পর্যন্ত হতে পারে। এরই মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
