বুলগেরিয়ার সীমান্তে জাল পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথি শনাক্তে আধুনিক মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সীমান্ত পুলিশ। সম্প্রতি দেশটির সীমান্ত পুলিশের মহাপরিদপ্তর এ সংক্রান্ত কাজের পদ্ধতি প্রকাশ করেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, পাসপোর্ট সাধারণ মানুষের কাছে শুধু একটি ছবি, নাম ও ব্যক্তিগত তথ্যের পরিচায়ক হলেও বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি একটি জটিল নিরাপত্তা ডকুমেন্ট। বিশেষজ্ঞরা কোনো ভ্রমণ নথি যাচাইয়ের সময় সেটি আসল কি না, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, কিংবা সেটি প্রকৃত মালিকের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

বলা হয়েছে, সীমান্ত পুলিশের এই দল বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও জালিয়াতির পদ্ধতি নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ পান। নথির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সেগুলোর অনুকরণ করার সর্বশেষ কৌশল সম্পর্কেও তারা হালনাগাদ থাকেন।

প্রয়োজনে সীমান্ত চেকপয়েন্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে দুটি মোবাইল ডকুমেন্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা। এসব মোবাইল ইউনিট সাধারণ যানবাহনের চেহারা ধারণ করলেও ভেতরে থাকে সম্পূর্ণ সজ্জিত বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার সুবিধা। যেখানে আছে উন্নত সফটওয়্যারযুক্ত কম্পিউটার, মূল্যায়ন যন্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তি।

এসব ডিভাইসে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভিসাসহ সব ধরনের ভ্রমণ নথি আলট্রাভায়োলেট, ইনফ্রারেডসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ আলোয় পরীক্ষা করা হয়। নথির ছবি বড় করে দেখানো হয় এবং আসল ডকুমেন্টের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এই পদ্ধতিতে চোখে দেখা যায় না এমন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং জাল-পরিবর্তনের চিহ্ন বের করা সম্ভব হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে এক তরুণ বিশেষজ্ঞ মারিয়ান আরাঞ্জেলভ এ মোবাইল ইউনিটের সরঞ্জাম পরিচয় করিয়ে দেন। জানা যায়, বিশেষজ্ঞরা সঠিক প্রযুক্তিগত পদ্ধতি নির্ধারণ করে নথিপত্রের প্রকৃত অবস্থা শনাক্ত করেন। পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে সেটি দেখাতে আসা ব্যক্তির চেহারাও মিলিয়ে দেখা হয়।

সীমান্ত পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, এই কাজের জন্য বিশেষজ্ঞদের গভীর জ্ঞান, সতর্ক নজর এবং পর্যবেক্ষণ দক্ষতা থাকা অপরিহার্য। তাদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ ডকুমেন্ট, বৈধতার মেয়াদ, বৈশিষ্ট্য ও নিরাপত্তা চিহ্ন সঠিকভাবে জানার দরকার হয়।

প্রসঙ্গত, কোনো ডিভাইস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তির একাই সিদ্ধান্ত নয়—নথি আসল না জাল সেটি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেন প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যরা।

সংস্থাটি বলছে, দক্ষ জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তারা দেশের নাগরিক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেনজেন ভ্রমণকারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে চায়।