জার্মানিতে খাবার গ্রহণে সমস্যা বা 'ইটিং ডিসঅর্ডার'-এর কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা গত ২০ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৪ সালে এই বয়সী তরুণ-তরুণীর যে সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজারে।
২০২৪ সালে এই রোগে চিকিৎসা নেওয়া যুবকদের মধ্যে মেয়েরা ছিল ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। উক্ত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব বয়সী রোগীর মোট সংখ্যা ২০০৪ সালে ছিল ১১ হাজার ৫০০—যা ২০ বছর পর বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪০০।
সবচেয়ে বেশি রোগী ছিল অ্যানোরেক্সিয়া ডিজঅর্ডারে, যার সংখ্যা ছিল ৯ হাজার। বুলিমিয়া ধরনের ক্ষেত্রে রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩০০। উল্লেখযোগ্য বিষয়, সব বয়সী চিকিৎসার্থীদের ৯২ দশমিক ৯ শতাংশই নারী।
এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে হাসপাতালের রেকর্ড থেকে, ফলে একজন ব্যক্তি যদি একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাহলে তাকে একাধিকবার হিসাব করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সৌন্দর্য-ভাবনা, ফিল্টারের ব্যবহার, সফলতা অর্জনের চাপ এবং মানসিক চাপ, তরুণদের মধ্যে খাওয়ার সমস্যার প্রবণতা বাড়াচ্ছে। শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা বলছে, তরুণদের জন্য মিডিয়া সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। দেহের চেহারা নিয়ে যারা কাজ করেন তারা জানান, দৃশ্যনির্ভর সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলো 'নির্ভুল সৌন্দর্যের' চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অন্তর্ভুক্তিকরণ ও সচেতনতার পাশাপাশি সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
